ডেইলি বাংলাগ্রাম

ব্যাংক খাতে সাইবার হামলার চেষ্টা বেড়েছে ৪০ শতাংশ, সতর্কতা জারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

ছয় মাসে শনাক্ত ১২ হাজারের বেশি হামলার চেষ্টা, অধিকাংশই ফিশিং ও র‍্যানসমওয়্যার; ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনা জানানো বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা

২ মিনিটে পড়ুন
একটি ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র
একটি ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলার চেষ্টা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা ইউনিটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক খাতে ১২ হাজার ৩০০-এর বেশি হামলার চেষ্টা শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। এর প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ সব ব্যাংকের জন্য একটি জরুরি সতর্কতা ও নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার চেষ্টার ৬০ শতাংশের বেশি ফিশিং ধরনের, যেখানে কর্মকর্তাদের ভুয়া ই-মেইল বা বার্তা পাঠিয়ে পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। এর পর রয়েছে র‍্যানসমওয়্যার, অর্থাৎ তথ্য জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি। এ ছাড়া এটিএম নেটওয়ার্ক ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টাও বেড়েছে। অধিকাংশ চেষ্টা প্রতিহত করা গেলেও অন্তত তিনটি ব্যাংকে সীমিত মাত্রায় তথ্য বেহাত হওয়ার ঘটনা তদন্তাধীন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক বলেন, “হামলাকারীরা এখন প্রযুক্তির দুর্বলতার চেয়ে মানুষের দুর্বলতাকে লক্ষ্য করছে। একজন কর্মকর্তার একটি ভুল ক্লিক পুরো ব্যাংককে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি কর্মীর প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।” তিনি জানান, ২০১৬ সালের রিজার্ভ চুরির অভিজ্ঞতার পর গৃহীত ব্যবস্থাগুলো কাজ করছে, তবে হুমকির ধরন প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে।

নতুন নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে:

  • যে কোনো সাইবার ঘটনা শনাক্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে
  • সব ব্যাংকে বছরে অন্তত দুবার স্বাধীন প্রতিষ্ঠান দিয়ে নিরাপত্তা পরীক্ষা করাতে হবে
  • গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমে প্রবেশে বহুস্তর যাচাই ও তথ্যের অফলাইন ব্যাকআপ রাখতে হবে
  • প্রতিটি ব্যাংকে একজন পূর্ণকালীন প্রধান তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা থাকতে হবে

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ব্যাংকগুলোর প্রস্তুতি তুলনামূলক ভালো হলেও ছোট ও মাঝারি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করছে এবং তাদের নিরাপত্তা বাজেট মোট প্রযুক্তি বাজেটের ৫ শতাংশেরও কম। তিনি বলেন, দক্ষ সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবীর ঘাটতিও বড় সমস্যা, যাঁদের অনেকে ভালো বেতনে বিদেশে চলে যাচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোর মধ্যে হুমকির তথ্য তাৎক্ষণিক বিনিময়ের জন্য একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম অক্টোবরে চালু হবে। গ্রাহকদের জন্যও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে: ব্যাংকের নামে আসা কোনো লিংকে ক্লিক না করা, ওটিপি কাউকে না জানানো এবং সন্দেহজনক লেনদেন দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংককে জানানো।