ডেঙ্গুতে চলতি বছর মৃত্যু ছাড়াল ২০০, সেপ্টেম্বরে সংক্রমণ আরও বাড়ার শঙ্কা
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন; ঢাকার বাইরে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে রোগী বাড়ছে দ্রুত
দেশে ডেঙ্গুতে চলতি বছর মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন। এ নিয়ে জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু ২০৪ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৮ হাজার ছাড়িয়েছে।
গত বছরের তুলনায় এবার মৌসুম শুরু হয়েছে দেরিতে, কিন্তু আগস্টের মাঝামাঝি থেকে রোগী বাড়ছে দ্রুত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থেমে থেমে বৃষ্টি ও তার পরের গরম এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে। কীটতত্ত্ববিদদের সর্বশেষ জরিপে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৩৫ শতাংশ ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রার ওপরে পাওয়া গেছে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, এবার ঢাকার বাইরে রোগী বাড়ছে বেশি। মোট ভর্তি রোগীর ৫৮ শতাংশই ঢাকার বাইরের। বরিশাল বিভাগে গত এক সপ্তাহে রোগী বেড়েছে দ্বিগুণ, আর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। বরগুনা সদর হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি আছেন ১৩০ জনের বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক বলেন, “আমরা জেলা হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন ও পরীক্ষার কিটের মজুত বাড়িয়েছি। জ্বর হলে দেরি না করে পরীক্ষা করানো এবং প্রচুর তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। মৃত্যুর বড় কারণ দেরিতে হাসপাতালে আসা।” তিনি জানান, মৃতদের ৬০ শতাংশের বেশি হাসপাতালে এসেছেন জ্বরের চতুর্থ দিনের পরে।
চিকিৎসকেরা কয়েকটি সতর্ক লক্ষণের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে বলছেন:
- জ্বর কমে যাওয়ার পর তীব্র পেটব্যথা বা ক্রমাগত বমি
- দাঁতের মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত, কালো পায়খানা
- অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঝিমুনি বা প্রস্রাব কমে যাওয়া
দুই সিটি করপোরেশন বলছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে সপ্তাহে দুই দিন বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লার্ভা ধ্বংসের কাজ চলছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মশা মারার ওষুধ ছিটিয়ে সমাধান হবে না; নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত টায়ার ও ছাদবাগানে জমে থাকা পানিই বড় উৎস, যেখানে নাগরিকদের নিজ উদ্যোগ ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে, তাই ঘরে ও কর্মস্থলে সপ্তাহে অন্তত এক দিন জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।