ঢাকা ও চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক ফাইভ-জি চালু, শুরুতে ৫০০ সাইটে সেবা
দুই অপারেটর একই দিনে সেবা শুরু করল; সাধারণ গ্রাহকের চেয়ে কারখানা, বন্দর ও হাসপাতালের জন্য শিল্প-সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে তারা
দেশে বাণিজ্যিকভাবে পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক (ফাইভ-জি) সেবা শুরু হলো। দুটি মোবাইল অপারেটর আজ একই দিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের নির্দিষ্ট এলাকায় সেবা চালু করেছে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন জানিয়েছে, শুরুতে দুই শহরে মোট ৫০০টি সাইট থেকে সেবা দেওয়া হচ্ছে, যা বছর শেষে ২ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। গত বছর তরঙ্গ নিলামে অপারেটরগুলো ফাইভ-জির জন্য উপযোগী তরঙ্গ কিনেছিল।
প্রথম ধাপে ঢাকার গুলশান, বনানী, মতিঝিল, উত্তরা ও মিরপুরের অংশবিশেষ এবং চট্টগ্রামের বন্দর এলাকা, আগ্রাবাদ ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে সেবা পাওয়া যাচ্ছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ডাউনলোডের গতি গড়ে ৪০০ থেকে ৭০০ মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড, যা বিদ্যমান ফোর-জি নেটওয়ার্কের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি। ফাইভ-জি ব্যবহারের জন্য উপযোগী হ্যান্ডসেট থাকলে বাড়তি কোনো সিম বদলাতে হবে না।
একটি অপারেটরের প্রধান নির্বাহী বলেন, “ফাইভ-জির আসল মূল্য দ্রুত ভিডিও দেখায় নয়, বরং শিল্পে। চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ট্র্যাকিং, পোশাক কারখানায় স্বয়ংক্রিয় মান নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতালে দূর-চিকিৎসা, এসব ক্ষেত্রেই আমরা প্রথমে বিনিয়োগ করছি। সাধারণ গ্রাহকের জন্য ফোর-জির দামের প্যাকেজেই ফাইভ-জি ব্যবহার করা যাবে, আলাদা কোনো চার্জ নেই।”
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ফাইভ-জি চালুর ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছিল; ভারত ২০২২ সালে এবং শ্রীলঙ্কা ও নেপাল পরের বছরগুলোতে সীমিত আকারে সেবা শুরু করে। দেশে তরঙ্গ নিলামে বিলম্ব, অপারেটরদের আর্থিক চাপ ও ফাইভ-জি হ্যান্ডসেটের কম প্রচলনকে এই বিলম্বের কারণ হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানে দেশের সচল হ্যান্ডসেটের প্রায় ১৫ শতাংশ ফাইভ-জি উপযোগী।
টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেবা চালু হলেও এর সুফল পেতে ফাইবার সংযোগের বিস্তার জরুরি, কারণ ফাইভ-জি টাওয়ারগুলোতে উচ্চ ক্ষমতার ফাইবার সংযোগ লাগে। দেশের মোবাইল টাওয়ারের ৪০ শতাংশের কম এখন ফাইবারে যুক্ত। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, ফোর-জির মানই এখনো অনেক এলাকায় প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই, তাই ফাইভ-জির প্রচারের পাশাপাশি বিদ্যমান নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নে নজর দিতে হবে।
নিয়ন্ত্রণ কমিশন জানিয়েছে, অপারেটরদের লাইসেন্স শর্ত অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে এবং পাঁচ বছরের মধ্যে সব জেলা শহরে ফাইভ-জি সেবা পৌঁছাতে হবে। কমিশন সেবার মান নিয়মিত পরিমাপ করবে এবং ফলাফল প্রকাশ করবে। তৃতীয় অপারেটর জানিয়েছে, তারা আগামী মাসে ঢাকায় সেবা শুরু করবে।
