ডেইলি বাংলাগ্রাম

দেশীয় লজিস্টিকস স্টার্টআপ ‘পথচলা’-য় ২ কোটি ডলার বিনিয়োগ, বছরের সর্বোচ্চ

সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রের দুই তহবিলের নেতৃত্বে বিনিয়োগ; মফস্বলে ২৪ ঘণ্টায় পণ্য পৌঁছানোর নেটওয়ার্ক ও বৈদ্যুতিক ভ্যানে অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা

২ মিনিটে পড়ুন
ঢাকায় পথচলার একটি সর্টিং হাবে পার্সেল বাছাই
ঢাকায় পথচলার একটি সর্টিং হাবে পার্সেল বাছাই

দেশের স্টার্টআপ খাতে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ পেল লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ‘পথচলা’। সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দুটি ভেঞ্চার তহবিলের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে বলে আজ ঘোষণা করা হয়। ২০২১ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত স্টার্টআপটি বর্তমানে ৬৪ জেলায় ই-কমার্স পণ্য পৌঁছে দেয় এবং দৈনিক গড়ে ৯০ হাজার পার্সেল পরিবহন করে।

এই বিনিয়োগ এমন এক সময়ে এল, যখন গত দুই বছরে দেশের স্টার্টআপ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। একটি স্টার্টআপ গবেষণা সংস্থার হিসাবে, ২০২৪ সালে দেশে স্টার্টআপ বিনিয়োগ ছিল ৭ কোটি ডলারের কম, যা তার আগের বছরের অর্ধেক। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট বিনিয়োগ ৯ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যার একটি বড় অংশই এই একটি চুক্তি।

পথচলার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বলেন, “ঢাকায় পণ্য পৌঁছানো এখন কোনো সমস্যা নয়; সমস্যা হলো ঠাকুরগাঁও বা ভোলার গ্রামে। আমাদের লক্ষ্য দেশের যে কোনো উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পৌঁছানো। এই অর্থের বড় অংশ যাবে ২০০টি উপজেলা হাবে এবং ৫০০টি বৈদ্যুতিক ডেলিভারি ভ্যানে।” তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছর লাভজনক হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে।

বিনিয়োগকারী তহবিলের একজন অংশীদার বলেন, বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজার এখনো মোট খুচরা বিক্রির ৩ শতাংশের কম, যা ভারত বা ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় অনেক কম। তাই এখানে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি, কিন্তু লজিস্টিকসের অবকাঠামো দুর্বল হওয়াই বড় বাধা। যে প্রতিষ্ঠান সেই সমস্যার সমাধান করবে, তারাই বাজারের বড় অংশ পাবে বলে তিনি মনে করেন।

পথচলা বর্তমানে ৩ হাজার ২০০ কর্মী ও ৮ হাজার চুক্তিভিত্তিক ডেলিভারি কর্মী নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য একটি নতুন সেবা চালু হচ্ছে, যেখানে ফেসবুক পেজে বিক্রি করা উদ্যোক্তারা কোনো মাসিক ফি ছাড়াই পার্সেল পাঠাতে পারবেন এবং ক্রেতার কাছ থেকে সংগৃহীত টাকা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাবেন।

স্টার্টআপ খাতের বিশ্লেষকেরা এই চুক্তিকে খাতের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন। একজন বিশ্লেষক বলেন, একটি বড় বিনিয়োগ অন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরায়, তবে খাতের সমস্যা রয়ে গেছে: বিদেশি বিনিয়োগ আনার জটিল নিয়ম, বিনিয়োগকারীর অর্থ ফিরিয়ে নেওয়ার পথের অভাব এবং শেয়ারভিত্তিক কর্মী প্রণোদনার আইনি অস্পষ্টতা। সরকারের স্টার্টআপ নীতিমালার সংশোধনী এসব বিষয়ে কতটা সুরাহা দেয়, তার ওপর আগামী বছরের বিনিয়োগ নির্ভর করবে বলে তিনি মনে করেন।