ডেইলি বাংলাগ্রাম

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক লেনদেন ছাড়াল ৫ হাজার কোটি টাকা, গ্রাহক ২৫ কোটি হিসাব

আগস্টে মোট লেনদেন ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা; ব্যবসায়িক পেমেন্ট ও সরকারি ভাতা বিতরণে বড় প্রবৃদ্ধি, ফি কমানোর দাবি গ্রাহকদের

২ মিনিটে পড়ুন
একটি মুদিদোকানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দাম পরিশোধ করছেন ক্রেতা
একটি মুদিদোকানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দাম পরিশোধ করছেন ক্রেতা

দেশে মোবাইল আর্থিক সেবায় দৈনিক গড় লেনদেন ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আজ প্রকাশিত আগস্ট মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাসজুড়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের আগস্টের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। নিবন্ধিত হিসাবের সংখ্যা এখন ২৫ কোটি ছাড়িয়েছে, তবে সচল হিসাব প্রায় ১০ কোটি।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, লেনদেনের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি ব্যবসায়িক পেমেন্টে। দোকানে কেনাকাটা ও ছোট ব্যবসার সরবরাহকারীকে অর্থ পরিশোধে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার এক বছরে বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। সরকারি ভাতা, উপবৃত্তি ও প্রণোদনার অর্থ বিতরণেও মোবাইল হিসাব এখন প্রধান মাধ্যম; আগস্টে এই খাতে বিতরণ হয়েছে ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের একজন পরিচালক বলেন, “মোবাইল ব্যাংকিং এখন আর শুধু টাকা পাঠানোর মাধ্যম নয়, এটি দেশের খুচরা লেনদেনের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে। আন্তসংযোগ ব্যবস্থা চালুর পর এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে টাকা পাঠানো সহজ হওয়ায় ব্যবহার বেড়েছে।” তিনি জানান, ব্যাংক হিসাব থেকে মোবাইল হিসাবে টাকা আনা-নেওয়ার লেনদেনও দ্বিগুণ হয়েছে।

তবে গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, টাকা তোলার খরচ এখনো বেশি। প্রতি হাজার টাকা তোলায় সাড়ে ১৮ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বোঝা। ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো এই হার অর্ধেক করার দাবি জানিয়ে আসছে। অপারেটরদের যুক্তি, দেশজুড়ে ১৭ লাখ এজেন্টের নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখতে এই কমিশন প্রয়োজন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ফি কাঠামো পর্যালোচনায় একটি কমিটি কাজ করছে এবং ছোট অঙ্কের লেনদেনে খরচ কমানোর প্রস্তাব বিবেচনায় আছে। এর পাশাপাশি এজেন্টদের মাধ্যমে জালিয়াতি ও সিম বদলে হিসাব দখলের ঘটনা রোধে সব লেনদেনে বাধ্যতামূলক দ্বিস্তর যাচাই চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করা একজন গবেষক বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং গ্রামীণ নারী ও প্রবাসীর পরিবারকে আর্থিক ব্যবস্থায় এনেছে, এটি বড় অর্জন। কিন্তু ২৫ কোটি নিবন্ধিত হিসাবের বিপরীতে সচল হিসাব ১০ কোটি হওয়া মানে একজন মানুষ কয়েকটি হিসাব খুলছেন, আর অনেকে খুলে ব্যবহার করছেন না। তাঁর মতে, এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত হিসাবের সংখ্যা নয়, ঋণ, সঞ্চয় ও বিমার মতো সেবা মোবাইল হিসাবের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া। কয়েকটি অপারেটর ইতিমধ্যে ক্ষুদ্রঋণ ও ডিজিটাল সঞ্চয় সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে।