ডেইলি বাংলাগ্রাম

সরকারি সেবায় বাংলা ভাষার এআই সহকারী চালু, প্রথম ধাপে ২০ দপ্তরের তথ্য

ভূমি, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধনসহ সেবার নিয়ম কথ্য বাংলায় বুঝিয়ে দেবে ‘সহায়’; ভুল উত্তরের দায় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা

২ মিনিটে পড়ুন
মোবাইল ফোনে এআই সহকারী ‘সহায়’ ব্যবহার করছেন একজন নাগরিক
মোবাইল ফোনে এআই সহকারী ‘সহায়’ ব্যবহার করছেন একজন নাগরিক

নাগরিকদের সরকারি সেবা সম্পর্কে তথ্য দিতে বাংলা ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী ‘সহায়’ চালু করেছে সরকার। আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর থেকে ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যে কেউ কথ্য বাংলায় লিখে বা বলে প্রশ্ন করতে পারবেন। প্রথম ধাপে ভূমি, পাসপোর্ট, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, আয়কর, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগসহ ২০টি দপ্তরের ৩৫০ ধরনের সেবার তথ্য এতে যুক্ত করা হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সহকারীটি দেশে তৈরি একটি বাংলা ভাষা মডেলের ওপর ভিত্তি করে বানানো, যা ৫০ লাখের বেশি বাংলা নথি ও সরকারি সেবার নীতিমালা দিয়ে প্রশিক্ষিত। আঞ্চলিক উচ্চারণ বোঝার জন্য আটটি বিভাগের কথ্য ভাষার নমুনা ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে তিন মাসে ১২ লাখ প্রশ্নের জবাব দিয়েছে এটি, যার ৮৭ শতাংশ ব্যবহারকারী সঠিক বলে চিহ্নিত করেছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেন, “একজন কৃষক যদি জমির খতিয়ান তোলার নিয়ম জানতে দালালের কাছে না গিয়ে নিজের মোবাইলে নিজের ভাষায় জিজ্ঞেস করতে পারেন, সেটাই ডিজিটাল সেবার আসল অর্থ। এই সহকারী কারও চাকরি খাবে না, বরং দপ্তরের কর্মীদের একই প্রশ্নের উত্তর বারবার দেওয়ার বোঝা কমাবে।” তিনি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ দপ্তরের সেবা যুক্ত হবে।

সহকারীটি ব্যবহার করে দেখা গেছে, সেবার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি ও সময়সীমা সম্পর্কে এটি মোটামুটি নির্ভুল তথ্য দিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট অনলাইন ফরমের লিংক দিচ্ছে। তবে জটিল আইনি প্রশ্নে বা একাধিক দপ্তরের সঙ্গে জড়িত বিষয়ে উত্তর অসম্পূর্ণ থাকছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট দপ্তরের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে বলছে।

প্রযুক্তি ও নীতি বিশেষজ্ঞরা উদ্যোগকে সময়োপযোগী বললেও কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, এআই সহকারী ভুল তথ্য দিলে এবং তার ভিত্তিতে নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায় কার, সেটি স্পষ্ট করা জরুরি। এ ছাড়া ব্যবহারকারীর প্রশ্ন ও পরিচয় সংরক্ষণের নীতিমালা প্রকাশ করা উচিত। বিভাগ জানিয়েছে, প্রশ্নের তথ্য পরিচয়বিহীন করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং একটি ব্যবহার নীতিমালা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

প্রকল্পের কারিগরি দলের প্রধান জানান, দেশি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে মডেলটি তৈরি হয়েছে এবং এর মূল প্রযুক্তি সরকারের মালিকানায় থাকছে। আগামী বছর এটি কল সেন্টারের ফোনকলে সরাসরি কথা বলার ক্ষমতা পাবে, যাতে ইন্টারনেট সংযোগ নেই এমন এলাকার মানুষও সাধারণ ফোন থেকে সেবা নিতে পারেন।