সুনামগঞ্জে বন্যায় পানিবন্দি দুই লাখ মানুষ, খোলা হয়েছে ৩১০ আশ্রয়কেন্দ্র
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে; ত্রাণ পৌঁছাতে না পারার অভিযোগ দুর্গম হাওর এলাকায়
উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের সাতটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে অন্তত দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, আর কুশিয়ারা বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে ৩১ সেন্টিমিটার।
সবচেয়ে খারাপ অবস্থা তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়নের প্রায় সব ঘরবাড়িতে কোমরসমান পানি। মানুষ গবাদিপশু নিয়ে উঁচু সড়ক ও বিদ্যালয়ের ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের তিনটি স্থান ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ, নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা।
জেলা প্রশাসক জানান, জেলায় ৩১০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ৪২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি উপজেলায় ২০ টন চাল ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে। শুকনা খাবারের ছয় হাজার প্যাকেট বিতরণ চলছে। তবে দুর্গম হাওর এলাকায় পৌঁছাতে সময় লাগছে, সেজন্য সেনাবাহিনীর সহায়তায় স্পিডবোট নামানো হয়েছে।”
তবে দুর্গত এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ত্রাণ এখনো অনেক গ্রামে পৌঁছায়নি। বিশ্বম্ভরপুরের ধনপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “তিন দিন ধরে পানিতে আছি। একবারও কেউ আসেনি। চিড়া-গুড় শেষ, বিশুদ্ধ পানি নাই।” স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা নিজেদের উদ্যোগে নৌকায় খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট নিয়ে যাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ৫৬টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৭০০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। জেলার ৩৮০টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যার অনেকগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উজানে বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা থাকায় পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করতে পারে। তবে হাওর এলাকায় পানি নামতে সপ্তাহখানেক লেগে যেতে পারে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান ও শাকসবজি তলিয়ে গেছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে বীজ ও সার বিতরণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, আর আমন রোপণের সময় পেরিয়ে যাওয়ার আগেই তা কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।