ডেইলি বাংলাগ্রাম

এনআইডি সংশোধনে জালিয়াতি রুখতে নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপ

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের সুযোগ নিয়ে জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এনআইডি সংশোধনে জালিয়াতি রুখতে নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপ

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের সুযোগ নিয়ে জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্পত্তি বিক্রি, উত্তরাধিকার দাবি ও পাসপোর্ট পরিবর্তনে এই সুযোগের অপব্যবহারের অভিযোগে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা, বরখাস্ত ও গ্রেপ্তারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ মেলায় ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আ. ছত্তার এবং পঞ্চগড় সদরের অফিস সহকারী কামনা রানী সরকারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি সংশোধন আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে নানা অনিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন। সিইসি ও ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, পিতা ও সন্তানের অবাস্তব বয়সের ব্যবধান এবং একাধিক জন্মসনদ বা শিক্ষাগত সনদের কারণে অনেক আবেদন বাতিল হয়। এছাড়া বিদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গাদের অবৈধ নিবন্ধন ঠেকাতে পারিবারিক নথি ও অন্যান্য প্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

ইসি জানায়, নাম বা জন্মতারিখের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে পরিবার ও অন্যান্য সনদের সঙ্গে মিলিয়ে উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মৌলিক তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সঠিক প্রমাণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। পাশাপাশি পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যে গরমিল এড়াতে শুরুতেই সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন। অন্যদিকে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীদের বিভিন্ন দূতাবাসে দ্রুত এনআইডি সেবা দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগও গ্রহণ করেছে ইসি।