ডেইলি বাংলাগ্রাম

প্রাথমিকে নতুন শিক্ষাক্রম: প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে বইয়ের বোঝা কমছে অর্ধেক

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিশুশ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই তিনটিতে নামিয়ে আনা হচ্ছে, জোর দেওয়া হবে খেলার মাধ্যমে শেখায়

১ মিনিটে পড়ুন
একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিশুরা
একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিশুরা

প্রাথমিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ছয়টি থেকে তিনটিতে নামিয়ে আনা হচ্ছে। বাংলা, গণিত ও একটি সমন্বিত ‘আমার চারপাশ’ বই ছাড়া বাকি বিষয়গুলো পড়ানো হবে কার্যক্রমভিত্তিক পদ্ধতিতে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আজ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদেরা ছোট শিশুদের ওপর বইয়ের বোঝা কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রথম শ্রেণির একটি শিশুর স্কুলব্যাগের গড় ওজন সাড়ে তিন কেজি, যা তার শরীরের ওজনের ১৫ শতাংশের বেশি।

নতুন কাঠামোয় প্রতিদিন প্রথম দুই ঘণ্টা থাকবে পড়া ও গণিতের মৌলিক দক্ষতার জন্য। বাকি সময় শিশুরা ছবি আঁকা, গল্প বলা, দলগত খেলা ও সংগীতের মধ্য দিয়ে শিখবে। শিক্ষকদের জন্য আলাদা নির্দেশিকা তৈরি হয়েছে, আর অক্টোবর থেকে ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিক্ষককে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ ও একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থার পরিচালক এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বই কমানো ভালো পদক্ষেপ, কিন্তু আসল পরীক্ষা হবে শ্রেণিকক্ষে। শিক্ষক যদি আগের মতো মুখস্থ করানোর পদ্ধতিতেই ফিরে যান, তাহলে কাগজে-কলমে পরিবর্তন কোনো কাজে আসবে না।” তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত কমানোর ওপরও জোর দেন।

অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। রাজধানীর মিরপুরের একজন অভিভাবক বলেন, বইয়ের সংখ্যা কমলে বাসায় পড়ার চাপও কমবে, এটা ইতিবাচক। তবে গ্রামের কিছু অভিভাবক আশঙ্কা করছেন, বই না থাকলে সন্তানের শেখার অগ্রগতি তাঁরা কীভাবে বুঝবেন। মন্ত্রণালয় বলছে, প্রতি তিন মাসে অভিভাবকদের জন্য সহজ ভাষায় অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

নতুন বই ছাপার কাজ নভেম্বরে শুরু হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই সব বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। প্রথম বছর ২০টি জেলার ৫০০ বিদ্যালয়ে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে পরের বছর প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, পরিবর্তনের সাফল্য নির্ভর করবে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও অভিভাবকদের ধৈর্যের ওপর, কারণ শেখার ফল দেখতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।