ডেইলি বাংলাগ্রাম

পানিতে ডুবে সাত মাসে প্রাণ গেল ৭২ শিশুর

নোয়াখালী জেলায় গত সাত মাসে মোট ১৯৩টি পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।

পানিতে ডুবে সাত মাসে প্রাণ গেল ৭২ শিশুর

নোয়াখালী জেলায় গত সাত মাসে মোট ১৯৩টি পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। এসব ঘটনায় ৭২ শিশুর প্রাণ শেষ হয়েছে। তথ্য জেলা সিভিল সার্জনের অফিস থেকে পাওয়া যায় এবং জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত। মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হাতিয়ায় উপজেলায়, যেখানে ৫৬টি ঘটনায় ৪৩ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। কোম্পানীগঞ্জে ৩৮টি, কবিরহাটে ২৩টি, সেনবাগে ৩৭টি ঘটনায় যথাক্রমে ১৪, ১১ ও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চাটখিলে ৩১টি, বেগমগঞ্জে ১৮টি, সুবর্ণচরে ৮টি এবং সোনাইমুড়ীতে ১টি ডুবে যাওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হলেও সেখানে কোনো প্রাণহানি হয়নি।

নোয়াখালী সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রাম থেকে আইনজীবী আবদুর রহিমের আড়াই বছর বয়সী ছেলে ইলহাম নূর ফালাক গত শুক্রবার বাড়ির পুকুরে ডুবে যায়। তার মা রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, আর বাবা জুমা নামাজে ছিলেন। শিশুটি মাত্র ১০‑১৫ মিনিটের জন্য মায়ের দৃষ্টির বাইরে ছিল, এরপর পুকুরের ঘাটে চলে যায়। পরিবার সদস্যরা ঘাটে জুতা দেখতে পায় এবং তৎপরতা দেখিয়ে পুকুরে তল্লাশি করে অচেতন অবস্থায় ইলহামকে উদ্ধার করে। হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জেলা সিভিল সার্জন মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, স্বাস্থ্য বিভাগ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে, তবে এটি একা যথেষ্ট নয়; স্থানীয় সরকার ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয় দরকার। তিনি যোগ করেন, কর্মস্থলে বাবা না থাকলে মা কাজের ব্যস্ততায় শিশুর নজরদারি কমে যায়, ফলে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ডে‑কেয়ার সেন্টার বা নির্ভরযোগ্য পরিচর্যা ব্যবস্থা থাকলে মৃত্যুর হার কমতে পারে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান সহকারী অধ্যাপক শাহনাজ আক্তার বলেন, অঞ্চলে ঘরের সামনে উন্মুক্ত পুকুরের সংখ্যা বেশি, তাই শিশুকে দ্রুত সাঁতার শিখানো জরুরি।