রাখাল থেকে বাদাম বিক্রেতা, এখন টক বরইতে এক কোটি টাকার বিক্রি
মোসলেম উদ্দিন টক বরই চাষে সফল হয়েছেন।
মোসলেম উদ্দিন টক বরই চাষে সফল হয়েছেন। সখীপুরে প্রায় ৫০ একর জমিতে গড়ে ১০ বস্তা (প্রতিটি ৬০ কেজি) বরই প্রতিদিন ঢাকার কারওয়ান ও শ্যামবাজারে পাঠানো হয়। প্রতি কেজি ১৫০‑১৬০ টাকা দরে বিক্রি হলে, দৈনিক আয় ৭২,০০০‑৯৬,০০০ টাকা হয়। তিনি এই মৌসুমে এক কোটি টাকার বিক্রি এবং প্রায় ৩০ লাখ টাকার লাভের লক্ষ্য রাখছেন।
মোসলেমের পথচলা সহজ ছিল না। ১৯৯৭ সালে বিবাহের পর তিনি বাড়ি বাড়ি আচার‑বাদাম বিক্রি করে জীবিকা চালাতেন। ২০১০ সালে ছয় একর জমিতে লেবু চাষ শুরু করেন এবং সাফল্য পেয়ে টক বরই চাষের দিকে মনোনিবেশ করেন। প্রথমে গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামে ১০ একর, পরে কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানী গ্রামে অতিরিক্ত ৪০ একর জমি ইজারা নিয়ে মোট ৫০ একর বরই বাগান গড়ে তোলেন।
বরই বাগানটি এখন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছে। সারা বছর ধরে প্রায় ১৫ জন শ্রমিক স্থায়ীভাবে কাজ করেন, আর পিক মৌসুমে প্রতিদিন ৭০‑৮০ জন শ্রমিক জড়িত থাকে। তার তিনতলা বাড়ি এখন তার পরিবারকে স্বাচ্ছন্দ্য দেয়; দুই সন্তান উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছে। মোসলেমের সাফল্য দেখে সখীপুরের অন্যান্য কৃষকও টক বরই চাষে আগ্রহী হয়েছে।