ডেইলি বাংলাগ্রাম

গাজীপুরে মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুকে চুমু ও হুমকির অভিযোগ, পডকাস্টে ভুক্তভোগীর মায়ের বয়ান

গাজীপুরের একটি মাদরাসায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছোট্ট শিশুশিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক চুমু দেওয়া ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ভুক্তভোগী শিশুর মা ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন।

পডকাস্টে ভুক্তভোগী শিশুর মা ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন (প্রতীকী ছবি)
পডকাস্টে ভুক্তভোগী শিশুর মা ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন (প্রতীকী ছবি)

গাজীপুরের একটি মাদরাসায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছোট্ট শিশুশিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক চুমু দেওয়া ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ভুক্তভোগী শিশুর মা ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনের সব তথ্যই শিশুর মায়ের বক্তব্যের ভিত্তিতে লেখা; ডেইলি বাংলাগ্রাম স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাই করতে পারেনি। শিশুর পরিচয় সুরক্ষার স্বার্থে তার ও পরিবারের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

সিঁড়িতে ঘটনা, কোনো সিসিটিভি নেই

মায়ের ভাষ্যমতে, গত ১৯ অক্টোবর ক্লাস ছুটির পর অভিযুক্ত শিক্ষক তার সন্তানকে সিঁড়িতে টেনে ধরে সবার অগোচরে চুমু দেন। ওই স্থানে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই বলে তিনি জানান। শিশুটিকে শিক্ষক নাকি বলেন, বাসায় গিয়ে কিছু না বলতে—বললেও কেউ বিশ্বাস করবে না, কারণ সেখানে কোনো ফুটেজ নেই। পাশাপাশি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে মায়ের অভিযোগ।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ

ঘটনা জানার পর তিনি প্রথমে মাদরাসার এক শিক্ষিকা, লুনা ম্যাডামকে ফোন করে পুরো বিষয়টি জানান। মায়ের দাবি, ওই শিক্ষিকা জবাবে বলেন, এটা প্রথমবার হয়েছে, শিক্ষককে আরেকটি সুযোগ দেওয়া হোক। এতে তিনি কোনোভাবেই আশ্বস্ত হতে পারেননি।

এরপর তিনি মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল সালাউদ্দিন সাকিবকে ফোন করেন। মায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ভাইস প্রিন্সিপাল তাকে আশ্বাস দেন যে ২০ অক্টোবরের মধ্যেই সিঁড়িতে সিসিটিভি বসানো হবে এবং ক্লাসে পুরুষ শিক্ষকের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক একজন নারী শিক্ষকও থাকবেন।

এই আশ্বাসে ভরসা করে তিনি ২০ অক্টোবর সন্তানকে মাদরাসায় পাঠান। ওই দিন সকালে শিশুটির নানা মাদরাসার পরিচালক আলমাস হোসেনকে ফোন করে ঘটনা জানালে তিনিও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন বলে পরিবারের দাবি। তবে মায়ের অভিযোগ, সেদিনও অভিযুক্ত শিক্ষক একাই ক্লাস নেন এবং শিশুটির কাছে তার বাসার ঠিকানা জানতে চান।

বাসায় হাজির অভিযুক্ত শিক্ষক

মায়ের বয়ানের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো, ২০ অক্টোবর ক্লাস শেষে অভিযুক্ত শিক্ষক সরাসরি তাদের বাসায় চলে যান। তখন তিনি সন্তানদের নিয়ে বাসায় একা ছিলেন। বারবার দরজা ধাক্কানোর পরও তিনি দরজা খোলেননি এবং শিশুর বাবা ফিরলে কথা বলতে বলেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি জানান, দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ওই শিক্ষক তাকে মোবাইলে টেক্সট পাঠান—দরজা খুলতে বলেন, তার সাথে কথা আছে।

যাচাইযোগ্য তথ্য, কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেই

মায়ের বর্ণিত ঘটনাপ্রবাহে একাধিক বিষয় রয়েছে—শিক্ষিকা ও ভাইস প্রিন্সিপালের সাথে ফোনালাপ, পরিচালকের সাথে যোগাযোগ, মোবাইলে পাঠানো বার্তা—যা তদন্তে সহজেই যাচাই করা সম্ভব। বিষয়টি নিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা বা পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।