ঝুঁকি জেনে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকারে শীতলক্ষ্যায় ঝাঁপ দিয়ে সৌরভ মিয়া মারা গেছেন
শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে শুক্রবার পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করার পর অন্যদের সাহায্য করতে গিয়ে ১৮ বছর বয়সী সৌরভ মিয়া নিজেই ডুবে যান।

শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে শুক্রবার পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করার পর অন্যদের সাহায্য করতে গিয়ে ১৮ বছর বয়সী সৌরভ মিয়া নিজেই ডুবে যান। তিনি ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনে তৎক্ষণাৎ নদীতে ঝাঁপ দেন, শিশুসন্তানসহ এক নারীকে টেনে তুলে আনেন, এরপর স্রোতে টেনে নেয়া অন্য তিনজনের দিকে যাওয়ার সময় ডুবে যান। প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
সৌরভের সঙ্গে ছিলেন মাহফুজুর রহমান, যিনি জানান, চিৎকার শোনার সঙ্গে সঙ্গে তিনজন দৌড়ে নদীতে গেলেন। সেখানে কয়েকজন হাবুডুবু খাচ্ছিলেন; সৌরভ প্রথমে দুজনকে পাড়ে নিয়ে আসেন, তারপর স্রোতের দিকে টান টানার সতর্কতা দিলেও নিজে ডুবে যান। পাঁচজনের মধ্যে দুজনের লাশ এবং অন্য একজনের দেহ শিবপুরের কালীগঞ্জের দীঘুয়ায় ১০ কিলোমিটার দূরে ভেসে ওঠে। শান্ত মিয়া নামে এক তরুণ এখনও নিখোঁজ, ফায়ার সার্ভিস তার সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সৌরভ নরসিংদী শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রাম থেকে আসা। তিনি দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। বাবা মজনু মিয়া কৃষক, মা গৃহিণী। তিনি স্থানীয় শিকদার আবদুল মান্নান উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিতে চেয়েছিলেন, তবে সারের দোকানে কাজ নেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরিবার ও আত্মীয়রা তাকে পরোপকারী বলে বর্ণনা করেছেন; কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।