ডেইলি বাংলাগ্রাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ১০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত, উত্তপ্ত বিতর্ক ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ১০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত, উত্তপ্ত বিতর্ক ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে মাত্র নয় কার্যদিবসের মধ্যে এই অধিবেশন বেশ আলোচিত হয়েছে। শুরুর দিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিরোধী দলের এমপিদের প্রতি তুচ্ছ মন্তব্য করেন, ফলে সংসদে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাৎক্ষণিকভাবে শঙ্কা প্রকাশ করে, "এটি অশুভ, যদি আমার বক্তব্যের সময় এভাবে মন্তব্য করা হয়, তবে আমি এখানে থাকব না" বলে মন্তব্য করেন। অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে, যার মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন, এসআরবি গঠন আইন, এবং ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে ধারা ১৮(ক) যুক্ত করা ও পরে বাদ দেওয়া অন্তর্ভুক্ত। মোট ১,৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন এলএনজি টার্মিনাল, ১৫০টি কূপ খনন, ৪,৫০০ কিলোমিটার ২ডি এবং ৪,২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিকল্পনা এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিস্তৃত প্রকল্প ঘোষণা করেন।

অধিবেশনের সময় ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে কোনো একটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে নয়। মোট ৫০টি স্থায়ী কমিটি রয়েছে, যার মধ্যে ২৪টি কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্য রয়েছে এবং ২২টি কমিটিতে তিনজন করে সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। শুধুমাত্র একটিই বিরোধী দলের উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে সভাপতি হিসেবে রাখা হয়েছে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের বিলের ক্ষেত্রে বিরোধী দল কোরআন-সুন্নাহ ও শারিয়াতের বিরোধিতা করে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও শারিয়া বিশেষজ্ঞদের মতামত চায়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলছেন নতুন পদ্ধতি হেবা আইনকে লঙ্ঘন করে না এবং কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়েছে।

সার সংকট নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক হয়। বিরোধী দলের নাজিবুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম সরকারকে সার বিতরণে ব্যর্থতা ও ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি অভিযোগ করেন, যদিও সরকার মজুদ আছে বলে দাবি করে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ডিলারদের পুনর্নিয়োগ ও নতুন ডিলার পয়েন্ট স্থাপনের পরিকল্পনা জানান। অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। বিরোধী নেতা ডা. শফিকুর রহমানও দেশের পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীন রাখার কথা উল্লেখ করে, প্রয়োজন হলে সমানে সমান লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেন।