গলির ভেতর শতবর্ষী হোটেল, প্রধান আকর্ষণ নদীর টাটকা মাছ
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মাছবাজার গলিতে অবস্থিত সালাম হোটেল, এক শতবর্ষেরও বেশি পুরোনো।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মাছবাজার গলিতে অবস্থিত সালাম হোটেল, এক শতবর্ষেরও বেশি পুরোনো। এখানে পদ্মা ও কীর্তিনাশা নদীর তাজা মাছের স্বাদ পাওয়া যায়, ফলে দূর‑দূরান্তের গ্রাহক আসেন। হোটেলটি ৮৪ বছর বয়সী আব্দুস সালাম খান পরিচালনা করছেন, যিনি ৫৭ বছর ধরে ব্যবসা চালাচ্ছেন। প্রতিদিন প্রায় ৫০‑৬০ জন গ্রাহক খাবার গ্রহণ করেন এবং দৈনিক বিক্রয় ২০‑২৫ হাজার টাকা।
হোটেলের প্রতিষ্ঠা ১৯২০‑এর দশকে সুরত আলী খান শুরু করেন, যিনি প্রায় ৪৯ বছর ব্যবসা চালালেন। ১৯৬৯ সালে তার পুত্র আব্দুস সালাম দায়িত্ব নেন এবং ১৯৯০ সালে বাবার মৃত্যুর পর হোটেলটি উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে মাছবাজার গলিতে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে ৪২ বছর ধরে রান্না করছেন হাসিনা বেগম, যাকে প্রধান বাবুর্চি বলা হয়। তিনি কাঠের তিনটি চুলায় খাবার প্রস্তুত করেন এবং সব উপকরণ দিনেই ব্যবহার করেন।
হোটেলে বেলা একটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত খাবার পরিবেশন করা হয়; সরকারি ছুটিতে বন্ধ থাকে। মেনুতে ইলিশ (৩৫০‑৪০০ টাকা), পাঙাশ, আইড়, বোয়াল (৩০০‑৩৫০ টাকা), ছোট মাছের প্লেট (১৫০‑২০০ টাকা) এবং খাসি ও মুরগির মাংসের টুকরা (২০০ টাকা) অন্তর্ভুক্ত। কর্মী সংখ্যা সাতজন; তিনজন রান্না করেন, চারজন পরিবেশন ও বিক্রয় দেখেন। উপজেলা প্রশাসন হোটেলের আধুনিকায়নে সহায়তা দিতে প্রস্তুত এবং মাছকেন্দ্রিক পর্যটন পরিকল্পনা চালু করার কথা জানিয়েছে।