ডেইলি বাংলাগ্রাম

সংসদে নারী আসন ৭৫-এ উন্নীত করার প্রস্তাব, সরাসরি ভোটের দাবিতে নারী সংগঠনগুলো

সংবিধান সংশোধনের খসড়ায় সংরক্ষিত আসন ৫০ থেকে ৭৫ করার প্রস্তাব; সংগঠনগুলো বলছে মনোনয়ন নয়, নির্বাচিত হতে চান নারীরা

১ মিনিটে পড়ুন
সংসদ ভবনের সামনে নারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের মানববন্ধন
সংসদ ভবনের সামনে নারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের মানববন্ধন

জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ করার প্রস্তাব রেখে সংবিধান সংশোধনের একটি খসড়া প্রকাশ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। খসড়া অনুযায়ী, বর্তমান পদ্ধতিতেই সংসদে দলগুলোর আসন অনুপাতে এসব আসন বণ্টন হবে। মন্ত্রণালয় বলছে, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তবে প্রস্তাবটি প্রকাশের পরই নারী অধিকার সংগঠনগুলো এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আসন বাড়ানো নয়, মূল দাবি হলো সংরক্ষিত আসনে সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা। ১৯৭২ সাল থেকে চলে আসা মনোনয়নভিত্তিক ব্যবস্থায় নারী সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব পান না এবং দলের নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল থাকেন বলে তাদের অভিযোগ।

একটি জাতীয় নারী সংগঠনের সভাপতি বলেন, “৫০ থেকে ৭৫ হলে কী পরিবর্তন হবে? আমরা ৫০ বছর ধরে বলছি, নারীদের জন্য আসন থাকুক, কিন্তু সেখানে ভোট হোক। প্রতিটি সংরক্ষিত আসনের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা থাকবে, সেখানকার ভোটাররা সরাসরি নারী প্রার্থীকে ভোট দেবেন। এতে নারী নেতৃত্ব তৃণমূল থেকে তৈরি হবে।”

সংগঠনগুলোর বিকল্প প্রস্তাবে রয়েছে তিনটি সাধারণ আসন মিলিয়ে একটি নারী আসন গঠন করা, যাতে ৩০০ আসনের বিপরীতে ১০০ নারী আসনে সরাসরি ভোট হয়। এর পাশাপাশি সাধারণ আসনে দলগুলোর মনোনয়নে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপের দাবিও জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এ বিষয়ে বিভক্ত। ক্ষমতাসীন জোটের একজন নেতা বলেন, সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা প্রশাসনিকভাবে জটিল এবং এতে নির্বাচনী এলাকার সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে, যা আগামী নির্বাচনের আগে সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক ঐক্য জোট বলেছে, তারা নীতিগতভাবে সরাসরি ভোটের পক্ষে, তবে সংস্কার সংলাপে বিষয়টি আলোচনার পরই চূড়ান্ত অবস্থান জানাবে।

আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খসড়ার ওপর জনমত নেওয়া হবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর পর মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত বিল সংসদে তোলা হবে। নারী সংগঠনগুলো ঘোষণা দিয়েছে, দাবি না মানা হলে তারা অক্টোবরে সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে এবং ৬৪ জেলায় স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান চালাবে। আইনমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জনমত পর্যালোচনার পর প্রয়োজনে খসড়ায় বড় পরিবর্তনের সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে, এবং সংস্কার সংলাপে দলগুলোর অবস্থানও চূড়ান্ত বিলে প্রতিফলিত হবে।