ডেইলি বাংলাগ্রাম

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু, প্রথম দিনেই মতভেদ

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই বারে সীমিত করা ও তত্ত্বাবধায়ক ধাঁচের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিয়ে একমত হতে পারেনি দলগুলো

১ মিনিটে পড়ুন
সংলাপের প্রথম দিনে গোলটেবিলে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা
সংলাপের প্রথম দিনে গোলটেবিলে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা

রাষ্ট্র সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু হয়েছে। রাজধানীতে আজ প্রথম দিনের বৈঠকে ১৪টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সংলাপ সমন্বয়কারী জানান, কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশের মধ্যে ৪০টি ‘অগ্রাধিকার’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেগুলো নিয়েই প্রথম পর্বে আলোচনা হচ্ছে।

প্রথম দিনের আলোচনায় উঠে আসে প্রধানমন্ত্রী পদে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে থাকতে পারবেন কি না, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো। সূত্র জানায়, উচ্চকক্ষের প্রশ্নে বড় দলগুলো নীতিগতভাবে একমত হলেও এর সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ থেকে গেছে। মেয়াদ সীমিত করার প্রস্তাবে ক্ষমতাসীন জোট আপত্তি জানিয়েছে।

সংলাপ শেষে গণতান্ত্রিক ঐক্য জোটের প্রতিনিধি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা পরিষ্কার বলেছি, নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন ছাড়া অন্য কোনো সংস্কার অর্থবহ হবে না। এটা আগে নিশ্চিত হোক, তারপর বাকি বিষয়ে আমরা নমনীয়।” ক্ষমতাসীন জোটের প্রতিনিধি বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কেবল সংসদই নিতে পারে, সংলাপ সেখানে পথ দেখাতে পারে মাত্র।

ছোট দলগুলো অভিযোগ করেছে, আলোচনার সময় বড় দুই শিবিরের মধ্যেই ভাগ হয়ে যাচ্ছে। একটি বাম দলের নেতা বলেন, স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন, দুর্নীতি দমন সংস্থার স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগ পৃথককরণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কারও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না, অথচ নাগরিকদের জন্য এসবই সবচেয়ে জরুরি।

সংলাপ সমন্বয়কারী জানান, আগামী চার সপ্তাহে প্রতি সপ্তাহে দুটি বৈঠক হবে এবং প্রতিটি বৈঠকের সারসংক্ষেপ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। যে বিষয়ে দলগুলো একমত হবে, তা ‘জাতীয় ঐকমত্য নথি’ আকারে স্বাক্ষরের জন্য উপস্থাপন করা হবে। যেসব বিষয়ে একমত হওয়া যাবে না, সেগুলোর বিভিন্ন বিকল্পসহ আলাদা প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম দিনের মতভেদ অস্বাভাবিক নয়, বরং প্রক্রিয়াটি টিকে থাকাই এখন বড় সাফল্য। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, অতীতে এ ধরনের সংলাপ প্রথম দুই বৈঠকের পর ভেঙে গেছে। এবার সারসংক্ষেপ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি থাকায় দলগুলোর ওপর জনমতের চাপ বজায় থাকবে, এটাই আশার দিক।