ডেইলি বাংলাগ্রাম

পদ্মা নদীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দী

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের ফলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের পদ্মা নদীর পানির স্তর গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ সেন্টিমিটার বাড়ছে।

পদ্মা নদীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দী

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের ফলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের পদ্মা নদীর পানির স্তর গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ সেন্টিমিটার বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১৩.০২ মিটার রেকর্ড হয়েছে, যেখানে বিপৎসীমা ১৩.৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার নিচে মাত্র ০.৭৮ মিটার পানির প্রবাহ চলছে। রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দী, যার মধ্যে ১৯টি গ্রামের ১৭টি গ্রামেই ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানানো হয়েছে যে ৩০ হাজার মানুষ সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে।

পানির উচ্চতা বাড়ার ফলে সড়ক, আবাদি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে। অনেক স্কুলে ক্লাস বন্ধ রয়েছে। রান্নার জায়গা ও চলাচলের পথ পানিতে নিমজ্জিত, ফলে বাসিন্দারা নৌকা, ডিঙি নৌকা ও ভেলা ব্যবহার করে চলাচল করছে। গবাদি পশু ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। পদ্মা নদীর পানিতে বিষধর সাপের উপদ্রব বাড়ার ফলে মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন উল্লেখ করেছেন যে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিই পানির দ্রুত বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে। চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান ও রামকৃষ্ণপুরের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল উভয়ই পরিস্থিতি ও সাপের উপদ্রবের ব্যাপারে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস জানান, বানভাসি মানুষের তালিকা তৈরি করে জরুরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় দ্রুত শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল ইসলাম তুহিন উল্লেখ করেছেন যে দৌলতপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে এবং সাপের কামড়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ জানান, প্রাথমিকভাবে ৭০টি পরিবারকে ত্রাণ হিসেবে খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া হবে।