ডেইলি বাংলাগ্রাম

পৌরসভা নির্বাচনে ইভিএম নয়, ব্যালটেই ভোট: ১১০ পৌরসভায় তফসিল ঘোষণা

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ৯ নভেম্বর প্রথম ধাপে ভোট; প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, দলীয় প্রতীকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

১ মিনিটে পড়ুন
একটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স প্রস্তুত করছেন কর্মকর্তারা
একটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স প্রস্তুত করছেন কর্মকর্তারা

দেশের ১১০টি পৌরসভায় প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৯ নভেম্বর এসব পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হবে। কমিশন জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হবে না; সব কেন্দ্রে ভোট হবে কাগজের ব্যালটে। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম থেকে সরে আসার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কমিশনের একজন কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ইভিএমের একটি বড় অংশ এখন কারিগরিভাবে ব্যবহারের অযোগ্য, আর মেরামতের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এর সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থার সংকটও আছে। তাই আমরা ব্যালটে ফিরছি, তবে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে এবং কমিশন থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে।”

তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ৮ অক্টোবর, বাছাই ১১ অক্টোবর এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে এবং কাউন্সিলর পদে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন হবে। মেয়র প্রার্থীদের হলফনামায় এবার সম্পদের পাশাপাশি গত পাঁচ বছরের আয়কর রিটার্নের সারসংক্ষেপ জমা দিতে হবে।

গণতান্ত্রিক ঐক্য জোট ব্যালটে ভোটের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে তারা সেনাবাহিনী মোতায়েন ও প্রতিটি কেন্দ্রের ফল কেন্দ্রেই ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের একজন নেতা বলেন, ইভিএম না থাকলে ভোট গণনায় সময় লাগবে, তবে কমিশনের সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নিচ্ছেন।

কমিশন জানিয়েছে, ২ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে মোট ভোটার প্রায় ৪৮ লাখ। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ১২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন, আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে থাকবে অতিরিক্ত ব্যবস্থা। প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের বাইরে ‘ফলাফল বোর্ডে’ কেন্দ্রভিত্তিক ফল টানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে প্রার্থীর এজেন্ট ও সাধারণ ভোটার সরাসরি ফল দেখতে পারেন।

দ্বিতীয় ধাপে আরও ১২০টি পৌরসভায় ডিসেম্বরে ভোট হওয়ার কথা। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে পৌরসভা ভোট রাজনৈতিক দলগুলোর সংগঠন ও জনসমর্থন যাচাইয়ের মহড়া হিসেবে কাজ করবে। একজন বিশেষজ্ঞের মতে, এই ভোট সুষ্ঠু হলে কমিশনের প্রতি আস্থা বাড়বে, না হলে জাতীয় নির্বাচনের আগে সংকট আরও গভীর হবে।