মেট্রোরেল পৌঁছাল কমলাপুরে, উত্তরা থেকে ৩৮ মিনিটেই যাত্রা শুরু
মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত অংশ খুলে দেওয়ার প্রথম দিনেই যাত্রীদের ভিড়; পুরো লাইনে দৈনিক পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য কর্তৃপক্ষের
রাজধানীর গণপরিবহনে যুক্ত হলো আরও একটি মাইলফলক। মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৬-এর মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত অংশ আজ সকালে যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১ কিলোমিটারের বেশি পথ এখন পাড়ি দেওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৮ মিনিটে। সড়কপথে একই দূরত্ব যেতে অফিস সময়ে দুই ঘণ্টার বেশি লেগে যায়।
সকাল সাড়ে সাতটায় প্রথম ট্রেন কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যায়। উদ্বোধনী দিনে স্টেশনের প্রবেশপথে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কমলাপুর রেলস্টেশনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকায় দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রীরা এখন লাগেজ নিয়ে সহজেই মেট্রোতে উঠতে পারছেন। নতুন স্টেশনে চারটি লিফট ও আটটি চলন্ত সিঁড়ি রাখা হয়েছে, আর প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ আছে।
মেট্রোরেল পরিচালনাকারী কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, “নতুন অংশ চালুর পর পুরো লাইনে দৈনিক পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। প্রথম সপ্তাহে যাত্রীদের অভ্যস্ত হওয়ার সময় দিতে আমরা পিক আওয়ারে ট্রেনের বিরতি সাড়ে তিন মিনিটে নামিয়ে আনব।” তিনি জানান, কমলাপুর পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে উত্তরা থেকে ১০০ টাকা এবং মতিঝিল থেকে ২০ টাকা।
যাত্রীরা প্রথম দিনের অভিজ্ঞতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। খিলগাঁও থেকে আসা একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, আগে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত রিকশায় যেতেই আধা ঘণ্টা লাগত, এখন সেই পথ ট্রেনে তিন মিনিটের। তবে কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেছেন, স্টেশনের বাইরে রিকশা ও অটোরিকশার জটলায় প্রবেশপথ আটকে যাচ্ছে।
সামনে কী
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্ধিত অংশ চালুর পাশাপাশি বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পাতাল লাইনের নির্মাণকাজ পূর্ণ গতিতে চলছে। ২০২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি নতুন লাইনের আংশিক অংশ চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া সব স্টেশনে র্যাপিড পাসের সঙ্গে মোবাইল অ্যাপে টিকিট কাটার সুবিধা এ মাসের শেষে চালু হবে।
নগর পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, কমলাপুর সংযোগের সুফল পেতে হলে স্টেশনের চারপাশে ফুটপাত, বাস স্টপ ও পার্কিংয়ের সমন্বিত ব্যবস্থা দ্রুত করতে হবে। একজন পরিবহন বিশেষজ্ঞের মতে, “মেট্রো একা যানজট কমাতে পারবে না; ফিডার বাস ও হাঁটার পথ ঠিক না হলে যাত্রীরা শেষ এক কিলোমিটারে আটকে যাবেন।”