ডেইলি বাংলাগ্রাম

চট্টগ্রামে ১০ দিনের আঞ্চলিক বইমেলা অক্টোবরে, অংশ নিচ্ছে ১৫০ প্রকাশনী

ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বড় বইমেলার আয়োজন; বাংলা একাডেমি বলছে চার বিভাগীয় শহরে ঘুরে ঘুরে মেলা করার পরীক্ষামূলক শুরু এটি

১ মিনিটে পড়ুন
বইমেলার একটি স্টলে বই দেখছেন পাঠকেরা
বইমেলার একটি স্টলে বই দেখছেন পাঠকেরা

ঢাকার বাইরে দেশের সবচেয়ে বড় বইমেলা হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। বাংলা একাডেমি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের যৌথ আয়োজনে অক্টোবরের ১০ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হবে এই মেলা। আজ চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকেরা জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১৫০টি প্রকাশনী মেলায় অংশ নেওয়ার নিবন্ধন করেছে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, ফেব্রুয়ারির অমর একুশে বইমেলা দেশের সাহিত্যজীবনের কেন্দ্র হলেও এর সুফল মূলত ঢাকার পাঠকেরাই পান। বিভাগীয় শহরে ঘুরে ঘুরে বছরে অন্তত চারটি আঞ্চলিক মেলা করার পরিকল্পনার পরীক্ষামূলক শুরু এটি। চট্টগ্রামের পর খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে মেলা হবে আগামী বছর।

তিনি বলেন, “ঢাকার মেলায় চট্টগ্রামের একজন পাঠকের যাতায়াত ও থাকার খরচ বই কেনার খরচের কয়েক গুণ। বই যদি পাঠকের কাছে না যায়, পাঠক বইয়ের কাছে যাবে কী করে? আমরা চাই প্রকাশকেরা ঢাকার বাইরের বাজারটা দেখুক।” মেলায় প্রকাশকদের স্টল ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে একাডেমি।

মেলার ৪০০ স্টলের পাশাপাশি থাকছে প্রতিদিন সাহিত্য আলোচনা, কবিতা পাঠ ও শিশুদের জন্য গল্প বলার আসর। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা ও লোকসাহিত্য নিয়ে একটি বিশেষ কর্নার থাকবে, যেখানে স্থানীয় কবি-লেখকদের বই প্রদর্শিত হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষায় প্রকাশিত বইয়ের জন্যও আলাদা স্টল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রকাশকেরা উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে কেউ কেউ বিক্রি নিয়ে সংশয়ে। একজন প্রকাশক বলেন, ঢাকার মেলায় এক মাসে যে বিক্রি হয়, ১০ দিনের আঞ্চলিক মেলায় তার এক-দশমাংশ হলেও তাঁরা খুশি থাকবেন, কারণ এতে নতুন পাঠক তৈরি হবে। চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি প্রকাশনীর কর্ণধার বলেন, তাঁদের বই ঢাকার মেলায় সব সময় পেছনের সারিতে থাকে; নিজের শহরের মেলায় সামনের সারিতে থাকার সুযোগ তাঁরা কাজে লাগাতে চান।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, মেলায় প্রবেশ বিনা মূল্যে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বইয়ে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় থাকবে। চট্টগ্রামের ৫০টি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বাসে মেলায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছে সিটি করপোরেশন। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে, ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে। সন্ধ্যায় মূল মঞ্চে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান ও নাটকের পরিবেশনা থাকবে।