ডেইলি বাংলাগ্রাম

প্রথম সপ্তাহে ৯ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি, রেকর্ড গড়ল ‘নদীর নাম মধুমতী’

দেশি সিনেমার ইতিহাসে প্রথম সপ্তাহের সর্বোচ্চ আয়; ৯৬ প্রেক্ষাগৃহে চলছে হাউসফুল, সপ্তাহান্তে আরও ৩০ হলে মুক্তির ঘোষণা প্রযোজকের

১ মিনিটে পড়ুন
রাজধানীর একটি মাল্টিপ্লেক্সে ‘নদীর নাম মধুমতী’-র পোস্টারের সামনে দর্শকের ভিড়
রাজধানীর একটি মাল্টিপ্লেক্সে ‘নদীর নাম মধুমতী’-র পোস্টারের সামনে দর্শকের ভিড়

ঢাকাই সিনেমায় নতুন ব্যবসায়িক রেকর্ড গড়ল ‘নদীর নাম মধুমতী’। গত শুক্রবার মুক্তির পর প্রথম সাত দিনে সিনেমাটি দেশের ৯৬টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে ৯ কোটি ১২ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি করেছে বলে জানিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। দেশি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রথম সপ্তাহে এটিই সর্বোচ্চ আয়; আগের রেকর্ডটি ছিল ছয় কোটি টাকার কিছু বেশি।

একটি নদীপারের গ্রামের তিন প্রজন্মের গল্প নিয়ে তৈরি সিনেমাটির পরিচালক এটি তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন একজন জনপ্রিয় নায়িকা এবং মঞ্চ থেকে আসা একজন অভিনেতা, যাঁর এটি প্রথম বড় পর্দার কাজ। সিনেমার গানগুলো মুক্তির আগেই ইউটিউবে দুই কোটি বার দেখা হয়েছে, যা দর্শক টানায় বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন হল মালিকেরা।

রাজধানীর একটি মাল্টিপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক বলেন, “গত তিন বছরে এমন দর্শক দেখিনি। সকাল ১০টার শো-ও হাউসফুল। দর্শকের একটা বড় অংশ পরিবার নিয়ে আসছেন, যা দেশি সিনেমায় দীর্ঘদিন দেখা যায়নি।” তিনি জানান, চাহিদা দেখে তাঁরা দৈনিক শো-এর সংখ্যা চার থেকে সাতে বাড়িয়েছেন।

ঢাকার বাইরেও সাফল্য অব্যাহত। বগুড়া, যশোর ও কুমিল্লার একক পর্দার হলগুলোতে টিকিট আগাম বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রদর্শক সমিতির নেতা। তাঁর মতে, বছরে দু-তিনটি এমন সিনেমা পেলে বন্ধ হয়ে যাওয়া হলগুলোর একটি অংশ আবার চালু করা সম্ভব। গত এক দশকে দেশে সিনেমা হলের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ থেকে নেমে এসেছে ১৫০-এর কাছাকাছি।

সিনেমার প্রযোজক জানিয়েছেন, দর্শকের চাহিদায় এ সপ্তাহান্তে আরও ৩০টি হলে সিনেমাটি মুক্তি পাবে। এর পাশাপাশি অক্টোবরে উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের ৪০টি শহরে প্রবাসী দর্শকদের জন্য মুক্তির চুক্তি হয়েছে। একটি দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ডিজিটাল স্বত্ব কিনতে আগ্রহ দেখালেও প্রযোজক বলছেন, হলে অন্তত আট সপ্তাহ চালানোর পর সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

চলচ্চিত্র সমালোচকেরা সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্যের সঙ্গে শিল্পমানকেও প্রশংসা করছেন। একজন সমালোচক বলেন, নদীভাঙন, অভিবাসন ও পারিবারিক সম্পর্কের মতো বিষয় সিনেমাটি বিনোদনের মোড়কে দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছে, যা বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক সিনেমার দূরত্ব কমানোর উদাহরণ। পরিচালক জানিয়েছেন, তাঁরা সিনেমাটি আন্তর্জাতিক উৎসবে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।