ডেইলি বাংলাগ্রাম

ঘরোয়া ফুটবলে ভিএআর চালুর সিদ্ধান্ত, প্রিমিয়ার লিগে শুরু আগামী মৌসুম থেকে

ফেডারেশন বলছে রেফারিং বিতর্ক কমাতে প্রযুক্তি জরুরি; প্রথম ধাপে ঢাকা ও সিলেটের দুই ভেন্যুতে, খরচ বহন করবে সম্প্রচার অংশীদার

১ মিনিটে পড়ুন
ম্যাচ চলাকালে ভিএআর মনিটরের সামনে রেফারি
ম্যাচ চলাকালে ভিএআর মনিটরের সামনে রেফারি

দেশের ঘরোয়া ফুটবলে প্রথমবারের মতো ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। আজ নির্বাহী কমিটির সভার পর ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জানান, আগামী মৌসুম থেকে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। প্রথম ধাপে ঢাকা ও সিলেটের দুটি ভেন্যুতে স্থাপন করা হবে প্রয়োজনীয় ক্যামেরা ও কন্ট্রোল রুম।

গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে রেফারিং নিয়ে অন্তত ছয়টি ম্যাচে বড় বিতর্ক হয়েছে, যার দুটিতে ক্লাব আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায় এবং একটিতে খেলা বন্ধ থাকে ২০ মিনিট। ক্লাবগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ঘরোয়া লিগে ভিএআর চালু করতে যাচ্ছে।

সাধারণ সম্পাদক বলেন, “রেফারিদের ওপর চাপ আর ক্লাবগুলোর অসন্তোষ দুটোই কমাতে প্রযুক্তি ছাড়া উপায় নেই। খরচের বড় অংশ সম্প্রচার অংশীদার বহন করবে, আর এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন কারিগরি সহায়তা দেবে। আমরা চাই বিশ্বমানের অবকাঠামো, যাতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনেও এটি কাজে লাগে।”

প্রযুক্তি চালুর আগে সবচেয়ে বড় কাজ রেফারিদের প্রশিক্ষণ। ফেডারেশন জানিয়েছে, ২৪ জন রেফারি ও সহকারী রেফারিকে অক্টোবরে মালয়েশিয়ায় ছয় সপ্তাহের ভিএআর সনদ কোর্সে পাঠানো হবে। এর পর দেশে ফিরে তাঁরা ডিসেম্বরে ফেডারেশন কাপের কয়েকটি ম্যাচে পরীক্ষামূলকভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন।

ক্লাবগুলো সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। একটি শীর্ষ ক্লাবের ম্যানেজার বলেন, প্রযুক্তি ভুল পুরোপুরি দূর করবে না, তবে অন্তত পেনাল্টি ও অফসাইডের মতো ম্যাচ-নির্ধারণী সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা আসবে। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দুটি ভেন্যুর বাইরে যে ম্যাচগুলো হবে, সেখানে একই মান কীভাবে নিশ্চিত হবে।

ফুটবল বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভিএআর একটি ইতিবাচক ধাপ, কিন্তু ঘরোয়া ফুটবলের মূল সমস্যা মাঠের মান, দর্শক ফেরানো ও ক্লাবগুলোর আর্থিক টেকসইতা। একজন বিশ্লেষক বলেন, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সঙ্গে জেলা পর্যায়ে লিগ চালু ও তৃণমূলে কোচ তৈরিতেও সমান মনোযোগ না দিলে লিগের মান বাড়বে না। ফেডারেশন জানিয়েছে, আগামী মৌসুমের লিগ শুরু হবে ফেব্রুয়ারিতে এবং প্রথমবারের মতো সব ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচারের চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।