ভুটানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ
গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে সেমিতে; প্রবাসী মিডফিল্ডারের জোড়া গোল, সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হতে পারে ভারত বা মালদ্বীপ
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে আজ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভুটানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করল অপরাজিত থেকে। প্রবাসী মিডফিল্ডার করেছেন জোড়া গোল, আর অন্য গোলটি এসেছে তরুণ স্ট্রাইকারের পা থেকে। ২০০৯ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচে পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে গেল।
ম্যাচের শুরুতে ভুটান চমকে দিয়েছিল। ১২ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করে এগিয়ে যায় তারা। কিন্তু বাংলাদেশ দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ২৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত শটে সমতা ফেরান প্রবাসী মিডফিল্ডার। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ডান প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে পা ছুঁইয়ে দলকে এগিয়ে দেন তরুণ স্ট্রাইকার।
দ্বিতীয়ার্ধে ভুটান আক্রমণে গেলেও বাংলাদেশের রক্ষণ ছিল সুসংগঠিত। ৭০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ, আর সেখান থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মিডফিল্ডার। ম্যাচে বাংলাদেশ গোলে শট নিয়েছে ১৪টি, বল দখলে রেখেছে ৫৮ শতাংশ সময়।
কোচ ম্যাচ শেষে বলেন, “প্রথম গোল হজমের পর ছেলেরা যেভাবে মাথা ঠান্ডা রেখেছে, সেটাই আজকের ম্যাচের গল্প। আমরা সেমিফাইনালে যেতে এসেছি, এখন লক্ষ্য ফাইনাল। প্রতিপক্ষ কে, তা নিয়ে ভাবছি না।” তিনি জানান, একজন ডিফেন্ডার হালকা চোট পেয়েছেন, তবে সেমিফাইনালের আগে সুস্থ হয়ে যাওয়ার আশা রয়েছে।
জোড়া গোল করা মিডফিল্ডার বলেন, ইউরোপের ক্লাব ফুটবল ছেড়ে দেশের জার্সিতে খেলার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, এই মুহূর্তগুলোর জন্যই খেলা। তিনি দেশের ভক্তদের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলেন, কাঠমান্ডুতেও গ্যালারিতে লাল-সবুজ পতাকা দেখে মনে হয়েছে ঘরের মাঠেই খেলছেন।
অন্য গ্রুপের ফলের ওপর নির্ভর করছে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ, যা ভারত বা মালদ্বীপ হতে পারে। সেমিফাইনাল হবে আগামী মঙ্গলবার। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল দেশের টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের পাশাপাশি ঢাকার কয়েকটি স্থানে বড় পর্দায় দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। বাংলাদেশ সর্বশেষ সাফ শিরোপা জিতেছিল ২০০৩ সালে। ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, দলটি যে ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রবাসী খেলোয়াড়দের যুক্ত করার নীতির ফল; সেমিফাইনালের ফল যা-ই হোক, এই দল নিয়ে দেশের ফুটবল নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারে।