ডেইলি বাংলাগ্রাম

সার্ক পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ: ঢাকায় আঞ্চলিক পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক অক্টোবরে

এক দশক পর শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সম্ভাবনা যাচাই; বাণিজ্য, জ্বালানি সংযোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আলোচনার কেন্দ্রে

১ মিনিটে পড়ুন
সার্ক সদস্য দেশগুলোর পতাকা
সার্ক সদস্য দেশগুলোর পতাকা

দীর্ঘদিন কার্যত অচল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ জানিয়েছে, অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে ঢাকায় সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের একটি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে পাঁচটি দেশ অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

সার্কের শেষ শীর্ষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১৪ সালে কাঠমান্ডুতে। এর পর দুই বড় সদস্য দেশের দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েনে ২০১৬ সালের ইসলামাবাদ সম্মেলন স্থগিত হয় এবং তার পর থেকে সংস্থাটি মূলত সচিবালয় পর্যায়ের কার্যক্রমে সীমিত। এই সময়ে আঞ্চলিক বাণিজ্য দক্ষিণ এশিয়ার মোট বাণিজ্যের ৫ শতাংশের কাছাকাছিই থেকে গেছে, যা বিশ্বের অন্য অঞ্চলের তুলনায় সর্বনিম্ন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “দ্বিপক্ষীয় মতভেদ থাকবে, কিন্তু জলবায়ু দুর্যোগ, জ্বালানি সংকট বা মহামারি কোনো সীমান্ত মানে না। এসব ক্ষেত্রে আঞ্চলিক কাঠামো ছাড়া আমাদের চলবে না। বাংলাদেশ চায় সার্ক অন্তত সেই বিষয়গুলোতে কার্যকর হোক, যেখানে সবার স্বার্থ অভিন্ন।” তিনি জানান, প্রস্তাবিত আলোচ্যসূচিতে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড, দুর্যোগ সতর্কীকরণ তথ্য বিনিময় ও ভিসা সহজীকরণ রয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ঢাকার উদ্যোগ সময়োপযোগী হলেও সাফল্য নির্ভর করবে বড় দুই সদস্যের মনোভাবের ওপর। একজন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব বলেন, পূর্ণাঙ্গ শীর্ষ সম্মেলনের চেয়ে ‘সার্ক মাইনাস’ পদ্ধতিতে আগ্রহী দেশগুলো নির্দিষ্ট প্রকল্পে এগিয়ে যেতে পারে, যেমন বিদ্যুৎ বাণিজ্যে বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ও ভারতের মধ্যে যে সহযোগিতা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। একটি শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনের সভাপতি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের সম্ভাবনা বর্তমান পরিমাণের অন্তত চার গুণ, কিন্তু শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এবং সীমান্তে দীর্ঘসূত্রতার কারণে তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সংবেদনশীল পণ্যের তালিকা ছোট করা তাদের প্রধান দাবি।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক সফল হলে আগামী বছরের প্রথমার্ধে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং পরে শীর্ষ সম্মেলনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। সার্ক সচিবালয় ইতিমধ্যে বৈঠকের কারিগরি প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে।