মালয়েশিয়ায় ফের কর্মী নেওয়ার ঘোষণা, অভিবাসন খরচ ৭৯ হাজার টাকায় বেঁধে দেওয়ার দাবি
দুই বছর বন্ধ থাকার পর প্রথম ধাপে ৫০ হাজার কর্মী নেবে দেশটি; সিন্ডিকেট ফেরার আশঙ্কায় সতর্ক অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়া আবারও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কুয়ালালামপুরে দুই দেশের যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক শেষে আজ প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম ধাপে নির্মাণ, পাম বাগান ও উৎপাদন খাতে ৫০ হাজার কর্মী নেওয়া হবে। নভেম্বর থেকে কর্মী পাঠানো শুরু হতে পারে।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি মালয়েশিয়া হঠাৎ বিদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ করলে বাংলাদেশের প্রায় ১৭ হাজার কর্মী ভিসা ও টিকিট থাকা সত্ত্বেও যেতে পারেননি। তাদের অনেকেই তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন, যা সরকার নির্ধারিত অভিবাসন খরচের চার-পাঁচ গুণ। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশে তদন্ত হয় এবং কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত হয়।
প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, “এবার আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, সীমিত সংখ্যক এজেন্সির সিন্ডিকেট আর চলবে না। বৈধ লাইসেন্সধারী সব এজেন্সি কর্মী পাঠাতে পারবে এবং সরকার নির্ধারিত ৭৯ হাজার টাকার বেশি কেউ নিতে পারবে না। যারা আগে টাকা দিয়েও যেতে পারেননি, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।” তিনি জানান, নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে হবে, যেখানে কর্মী নিজেই আবেদন করতে পারবেন।
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মীদের যাওয়ার আগেই নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তি, বাসস্থানের ব্যবস্থা ও বিমা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর কেউ কাজ না পেলে নিয়োগকর্তাকে জরিমানা করা হবে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই শর্তগুলোকে ইতিবাচক বললেও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
অভিবাসন নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থার প্রধান বলেন, অতীতে প্রতিবারই ঘোষণার সময় খরচ বেঁধে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কর্মীরা মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ঘুরে কয়েক গুণ টাকা দিয়েছেন। এবার যদি আবেদন থেকে ভিসা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ কর্মী নিজে দেখতে পারেন এবং অভিযোগের দ্রুত সুরাহা হয়, তবেই পরিবর্তন সম্ভব।
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে তাদের একটি অংশ বলছে, ৭৯ হাজার টাকায় বিমান টিকিট, মেডিকেল ও প্রশিক্ষণের খরচ ওঠে না। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খরচের একটি বিশদ বিভাজন শিগগিরই প্রকাশ করা হবে এবং প্রথম ব্যাচের কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় আট লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন।