ডেইলি বাংলাগ্রাম

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন রোডম্যাপের প্রস্তাব নিয়ে জাতিসংঘে যাচ্ছে বাংলাদেশ

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিন ধাপের প্রত্যাবাসন কাঠামো ও রাখাইনে নিরাপদ অঞ্চলের প্রস্তাব উপস্থাপনের প্রস্তুতি

১ মিনিটে পড়ুন
কুতুপালং শিবিরের একটি অংশ
কুতুপালং শিবিরের একটি অংশ

রোহিঙ্গা সংকটের নবম বছরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আনতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে একটি তিন ধাপের রোডম্যাপ উপস্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবে রাখাইনে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে নিরাপদ অঞ্চল গঠন, পর্যায়ক্রমে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।

কক্সবাজার ও ভাসানচরের শিবিরগুলোতে এখন প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। গত দুই বছরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে আরও প্রায় ৭০ হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে এসেছেন। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে; চলতি বছরের যৌথ সহায়তা আবেদনের বিপরীতে অর্থ পাওয়া গেছে ৪০ শতাংশের কম।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশ মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে, কিন্তু সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন। আমরা চাই বিশ্ব সম্প্রদায় এই দায়িত্ব ভাগ করে নিক। রোডম্যাপ সে লক্ষ্যেই।” তিনি জানান, প্রস্তাবের ওপর ইতিমধ্যে আসিয়ানের কয়েকটি দেশ ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

প্রস্তাবিত রোডম্যাপের প্রথম ধাপে রাখাইনের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় আন্তর্জাতিক সংস্থার উপস্থিতিতে মানবিক করিডর খোলা হবে। দ্বিতীয় ধাপে যাচাইকৃত পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে ফেরানো এবং তৃতীয় ধাপে নাগরিকত্ব ও চলাচলের স্বাধীনতাসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে। রাখাইনে বর্তমানে যে পক্ষ কার্যত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রশ্নটি প্রস্তাবের সবচেয়ে জটিল অংশ বলে স্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা।

শরণার্থী বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা প্রস্তাবের উচ্চাভিলাষকে স্বাগত জানালেও বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, মিয়ানমারে যে পক্ষই থাকুক, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রশ্নে কোনো পক্ষ থেকে ইতিবাচক সংকেত নেই; সেখানে নিরাপদ অঞ্চলের ধারণা কাগজেই থেকে যেতে পারে। তবু আন্তর্জাতিক মনোযোগ ফেরাতে এই উদ্যোগ প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মনে করেন।

শিবিরের রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, তাঁরা ফিরতে চান, কিন্তু নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা ছাড়া নয়। কুতুপালং শিবিরের একজন কমিউনিটি নেতা বলেন, তাঁদের মতামত না নিয়ে কোনো পরিকল্পনা টিকবে না। সরকার জানিয়েছে, রোডম্যাপ চূড়ান্ত করার আগে শিবিরে পরামর্শ সভা করা হবে।