ডেইলি বাংলাগ্রাম

জলবায়ু সম্মেলনের আগে ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে ‘দ্রুত অর্থ ছাড়’ চায় বাংলাদেশ

প্রতিশ্রুত ৮০ কোটি ডলারের মধ্যে ছাড় হয়েছে মাত্র ১২ শতাংশ; নভেম্বরের সম্মেলনে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর যৌথ অবস্থান নিতে ঢাকায় বৈঠক

১ মিনিটে পড়ুন
ঢাকায় জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রস্তুতি বৈঠক
ঢাকায় জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রস্তুতি বৈঠক

নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের আগে ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে দ্রুত অর্থ ছাড়ের দাবি জোরালো করছে বাংলাদেশ। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা ৪০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢাকায় আজ শুরু হওয়া দুই দিনের প্রস্তুতি বৈঠকে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, তহবিলে প্রতিশ্রুত ৮০ কোটি ডলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত ছাড় হয়েছে মাত্র ১২ শতাংশ, যা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।

ক্ষয়ক্ষতি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল ২০২২ সালের সম্মেলনে এবং এটি কার্যকর হয় পরের বছর। তবে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া জটিল ও ধীর হওয়ায় বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো এখনো তেমন কোনো সহায়তা পায়নি। বাংলাদেশ গত বছর দুটি ঘূর্ণিঝড় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যায় প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ক্ষতির হিসাব জমা দিয়েছিল।

পরিবেশ উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতি চাই না, আমরা অর্থ চাই। একটি ঘূর্ণিঝড়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুই বছর অপেক্ষা করতে পারে না। তহবিলের প্রক্রিয়া এমন হতে হবে যাতে দুর্যোগের ৯০ দিনের মধ্যে অর্থ পৌঁছায়।” তিনি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সম্মেলনে এক কণ্ঠে কথা বলার আহ্বান জানান।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রের প্রতিনিধি বলেন, উন্নত দেশগুলো নিজেদের অর্থনৈতিক চাপের কথা বলে অঙ্গীকার পূরণে দেরি করছে, অথচ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়া থামছে না। আফ্রিকার একটি দেশের প্রতিনিধি তহবিলের পরিচালনা পর্ষদে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি জানান।

বাংলাদেশের প্রস্তাব

ঢাকা বৈঠকে যে যৌথ অবস্থানপত্রের খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে। প্রথমত, তহবিলে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে অন্তত ১০ হাজার কোটি ডলার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, দুর্যোগ-পরবর্তী দ্রুত অর্থছাড়ের একটি ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ জানালা চালু করা। তৃতীয়ত, তহবিলের অর্থ ঋণ নয়, অনুদান হিসেবে দেওয়া, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ঋণের বোঝা না বাড়ে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এই আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের ভূমিকায় রয়েছে এবং ঢাকার এই বৈঠক সম্মেলনের আগে দর-কষাকষির অবস্থান শক্ত করবে। তবে একজন বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেন, দাবির পাশাপাশি দেশে জলবায়ু অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহারও দেখাতে হবে, না হলে দাতাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।