মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় প্রবাসীদের নিরাপত্তায় বিশেষ সেল, জরুরি ফেরার প্রস্তুতি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে এখনই সরিয়ে আনার পরিস্থিতি হয়নি; তবে ২৪ ঘণ্টার হটলাইন ও দূতাবাসে নিবন্ধনের আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৫০ লাখ বাংলাদেশির নিরাপত্তায় বিশেষ সেল গঠন করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র জানান, সেলটি ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে এবং প্রয়োজনে প্রবাসীদের দ্রুত সরিয়ে আনার পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এখনই সরিয়ে আনার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে তিনি জানান।
গত এক সপ্তাহে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে এবং কিছু এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর প্রভাবে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী কয়েকটি ফ্লাইটের সময়সূচি বদলেছে। বিমান বাংলাদেশ জানিয়েছে, তারা প্রতিদিন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করে রুট নির্ধারণ করছে।
মুখপাত্র বলেন, “আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার প্রবাসীদের জীবন। প্রতিটি দূতাবাসে হটলাইন খোলা হয়েছে, আর আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি দূতাবাসের অ্যাপে নিজের অবস্থান ও যোগাযোগের তথ্য নিবন্ধন করতে। জরুরি অবস্থায় কাকে কোথা থেকে আনতে হবে, সেই তথ্যটাই সবচেয়ে বড় ভরসা।” তিনি জানান, গত তিন দিনে ৪০ হাজারের বেশি প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন কর্মী পাঠানো এখনো বন্ধ হয়নি, তবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত এলাকায় নিয়োগ অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বলছে, অনিশ্চয়তায় প্রায় ২০ হাজার কর্মীর যাত্রা পিছিয়ে গেছে, যাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে ঋণ করে অভিবাসন খরচ পরিশোধ করেছেন।
অর্থনীতিবিদেরা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার দুই ধরনের প্রভাবের কথা বলছেন। প্রথমত, রেমিট্যান্স প্রবাহে সাময়িক ধাক্কা, যেহেতু দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের ৫৫ শতাংশের বেশি এই অঞ্চল থেকে আসে। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিতে চাপ। একজন অর্থনীতিবিদ বলেন, সংকট দীর্ঘ হলে সরকারের জ্বালানি ভর্তুকির হিসাব নতুন করে করতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তারা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং বাংলাদেশ সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রয়াসকে সমর্থন করে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।