গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নে ঢাকায় কারিগরি বৈঠক শুরু, ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ
১৯৯৬ সালের ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ বছরের ডিসেম্বরে; শুষ্ক মৌসুমে ন্যূনতম প্রবাহের নিশ্চয়তা চায় বাংলাদেশ
গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশনের কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক আজ ঢাকায় শুরু হয়েছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। দুই দিনের এই বৈঠকে গত তিন দশকের প্রবাহের উপাত্ত পর্যালোচনা এবং নতুন চুক্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে বলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে (জানুয়ারি থেকে মে) ফারাক্কা পয়েন্টে পানি দুই দেশের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সূত্রে ভাগ হয়। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, সবচেয়ে সংকটপূর্ণ মার্চ-এপ্রিলে চুক্তিতে নির্ধারিত পানি পাওয়া যায় না, কারণ উজানে প্রবাহ কমে গেলে ভাগ করার মতো পানিই থাকে না। নতুন চুক্তিতে একটি ‘ন্যূনতম নিশ্চিত প্রবাহ’-এর বিধান চায় ঢাকা।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান বৈঠকের শুরুতে বলেন, “তিন দশকে জলবায়ুর ধরন বদলেছে, উজানে পানির ব্যবহার বেড়েছে। নতুন চুক্তি অবশ্যই সেই বাস্তবতা ধরবে। আমরা চাই বৈজ্ঞানিক উপাত্তের ভিত্তিতে একটি ন্যায্য, দীর্ঘমেয়াদি ও পর্যবেক্ষণযোগ্য ব্যবস্থা।” ভারতীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ‘পরীক্ষিত ভিত্তি’ এই চুক্তি এবং দিল্লিও এটি নবায়নে আগ্রহী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তির অন্তত তিনটি বিষয় পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। প্রথমত, প্রবাহ পরিমাপের যৌথ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করা; দ্বিতীয়ত, উজানে নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে আগাম পরামর্শের বাধ্যবাধকতা; তৃতীয়ত, চুক্তি লঙ্ঘন হলে সালিসের ব্যবস্থা। একজন নদী বিশেষজ্ঞ বলেন, গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের কৃষি, মাছ ও লবণাক্ততার সমস্যা এই চুক্তির ওপর নির্ভর করে।
পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে নতুন চুক্তিতে রাজ্যের স্বার্থ যুক্ত করার দাবি উঠেছে, বিশেষত ফারাক্কার ভাটিতে নদীভাঙন ও কলকাতা বন্দরের নাব্যতা প্রসঙ্গে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এই দাবির কারণে আলোচনা কিছুটা জটিল হতে পারে, তবে কেন্দ্রীয় সরকার চুক্তি নবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
কারিগরি বৈঠকের ফলাফল অক্টোবরে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। উভয় পক্ষ আশা করছে, ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত একটি অন্তর্বর্তী কাঠামোতে সম্মত হওয়া সম্ভব হবে, যাতে চুক্তিহীন অবস্থায় শুষ্ক মৌসুম শুরু না হয়। বৈঠকের পাশাপাশি তিস্তাসহ অন্য অভিন্ন নদীর বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।